cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
Sajek Valley সাজেক ভ্যালী

একসাথে মেঘ ও পাহাড়ের মিতালী দেখার ইচ্ছা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য আদর্শ স্থান সাজেক ভ্যালী (sajek valley)। যেটা বর্তমানে, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত টুরিস্ট স্পট হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে। সাজেকের কথা সকলেই জানে। আর যারা ভ্রমণপ্রিয়াসু তাদের জন্য স্বপ্নের গন্তব্যস্থল সাজেক ভ্যালি। যেখানে দেখার মত রয়েছে অনেক কিছু। 

চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি আর সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি, আপনাকে মুগ্ধ করবে এটা নিশ্চিত। তাছাড়াও এটা এমন একটি জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের আবির্ভাব ঘটে। এ কারণে একইসঙ্গে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। 

তো যারা সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন তারা দেরি না করে আজকের আর্টিকেলটি পড়ুন, আর জেনে নিন– সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ সম্পর্কে খুঁটিনাটি।

সাজেক ভ্যালির (sajek valley) প্রধান আকর্ষণ

ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম প্রশ্ন– সাজেক ভ্যালির প্রধান আকর্ষণ কি! মূলত সাজেক ভ্যালির অন্যতম প্রধান ও প্রথম আকর্ষণ কংলাক পাহাড়, যে পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়।  

তবে আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মনে হবে সাজেকের সবকিছুই দারুন উপভোগ্য। কেননা পুরো সাজেক ভ্যালিটাই দর্শনীয় মনে হবে যে কারো কাছে। তবে কংলাক পাহাড়ের পর সাজেকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থান হলো—

  • হ্যালিপ্যাড
  • লুশাই ভিলেজ
  • রক গার্ডেন
  • রুই লুই পাড়া।

এছাড়াও সাজেকের নিচে রয়েছে একটি ঝর্ণা। যেটা প্রচলিত ভাষায় কমলক ঝর্ণা নামে পরিচিত। মূলত দুর্দান্ত সুন্দর ও উপভোগ্য একটি মাথা নষ্ট করা স্থান এটি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমরা পরামর্শ দেবো– যদি কখনো সাজেক বেড়াতে যান তাহলে সাজেক ভ্যালির সম্পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কিছুটা সময় হাতে রাখুন। 

কেননা সময় নিয়ে সাজেক ঘুরলে আপনি এক এক সময়ের একেক রকমের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। কেননা সূর্যাস্তের পরেও সাজেক তার রূপ বদল থামায় না। আর তাইতো সন্ধ্যার পর পরই আকাশ ভরা নক্ষত্রের দেখা মেলে সেখানে। রাত যত গভীর হয় ততই বাড়তে থাকে সাজেকের সৌন্দর্য আর জোসনায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও স্বর্গীয়। 

সাজেক ভ্যালি যাওয়ার উপায় ও সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ খরচ

ইতোমধ্যে এটা জানার বাকি নেই– সাজেক হচ্ছে শিল্পীদের তুলিতে আঁকা ছবির মত এক সুন্দরতম স্থান। আর তাই ভ্রমন প্রিয়াষী মানুষের মনে জানার আগ্রহ সাজেক ভ্যালি যাওয়ার উপায় কি! মূলত সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। যেখানে আপনি বাস এবং ট্রেনে পৌঁছাতে পারবেন। 

যেমন আপনার বাসা যদি খাগড়াছড়ি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালিতে পৌঁছতে মোটামুটি সময় লাগবে 6 ঘন্টা। অন্যদিকে সিএনজি ভাড়া পড়বে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজারের মতো। 

অপরদিকে আপনি যদি চট্টগ্রামের বাসিন্দা হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণ করতে চাইলে আপনি কদমতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে বিআরটিসি এর এসি বাসে খাগড়াছড়ি উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ভাড়া পড়বে মাত্র ২০০ টাকা। অতঃপর বাস থেকে নামতে হবে অক্সিজেন মোরে। সেখান থেকে আপনি আরও একটি বাসে ১৯০ টাকা ভাড়া দিয়ে পৌঁছাতে পারবেন আপনার গন্তব্যস্থলে। মূলত এক্ষেত্রে সময় লাগবে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। 

আর রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক ভ্রমণ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে জনপ্রতি দেড়শ থেকে আড়াইশো টাকা। এখন এটা নির্ভর করছে আপনি কোন জেলায় অবস্থান করছেন তার ওপর। তবে বলে রাখা ভালো– আপনি মূলত বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সাজেক ভ্যালিতে বাসে এবং ট্রেনে অথবা জিপ ও সিএনজি ভাড়া করে আসতে পারবেন। 

কোথায় খাবেন | কোথায় থাকবেন

সাজেকে রয়েছে শতাধিক জনপ্রিয় হোটেল ও রিসোর্ট। যেখানে  আপনি আপনার পছন্দসই যেকোনো হোটেল রেস্তোরায় রাত্রি যাপন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মোটামুটি সর্বনিম্ন খরচ পড়বে ১৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। এখন আপনি কেমন রিসোর্ট বা কেমন হোটেল ভাড়া নিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করবে। এবার আসুন আপনাদের সুবিধার্থে কয়েকটি রিসোর্ট ও কটেজ এবং হোটেলের নাম জেনে নেওয়া যাক-

  • চাঁদের বাড়ি রিসোর্ট
  • অবকাশ ইকো কটেজ
  • লুসাই হেরিটেজ ভিলেজ রিসোর্ট
  • কিন্নর কটেজ
  • মেঘরাজ রিসোর্টমেঘমাচাং রিসোর্ট
  • সাজেক ইকো ভ্যালি
  • সাম্পারি রিসোর্ট
  • সাংগ্রাই হিল রিসোর্ট
  • জুমঘর ইকো রিসোর্ট
  • মেঘপুঞ্জি
  • মেঘছুট রিসোর্ট
  • আদ্রিকা ইকো কটেজ
  • গরবা রিসোর্ট
  • সারা নীলকুটির রিসোর্ট
  • মেঘ বাতায়ন ইকো রিসোর্ট
  • লক্ষণ কটেজ – সালকা ইকো রিসোর্ট
  • সুমুই ইকো রিসোর্ট
  • সাজেক ক্লাসিক রিসোর্ট
  • ইন্দুবালা রিসোর্ট

অন্যদিকে খাবারের জন্য আপনি যেকোনো হোটেল থেকে বা রেস্টুরেন্ট থেকে বাঙালি খাবারগুলো অর্ডার করতে পারবেন। যদি আপনার বাজেট থেকে থাকে ১০০ থেকে আড়াইশো টাকা সেক্ষেত্রে মেনুতে রাখতে পারেন আলু ভর্তা, ভাত মুরগির মাংস ইত্যাদি। এমনকি বারবিকিউ খেতে পারেন। 

এছাড়াও প্রায় সকল ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন আপনি সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে গিয়ে। তবে হ্যাঁ সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ টিপস এক নজরে দেখে নিন। 

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ পরামর্শ

সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley) ভ্রমণকে সুন্দর স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আনন্দময় রাখতে–

  • হাতে সময় নিয়ে ভ্রমণে যান
  • বাজেট কিছুটা বেশি রাখুন
  • সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন, কেননা সেখানে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ নেই
  • সঙ্গে রবি এয়ারটেল এবং টেলিটক সিম রাখুন, কারণ সাজেকে গ্রামীনে নেটওয়ার্ক পায়না বললেই চলে
  • সাজেকের রাস্তা আঁকাবাঁকা তাই গাড়িতে সতর্কভাবে চলাচল করুন
  • আগে থেকেই হোটেল বা রেস্তোরায় রুম বুকিং দিয়ে রাখুন, এতে করে সময় বাঁচবে এবং আপনি সাজেকের প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন
  • সেই সাথে আদিবাসীদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিন
  • সেখানের মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন
  • বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে ছবি তোলা নিষিদ্ধ তাই বিষয়টি মাথায় রাখুন

এছাড়াও, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু আপনি একজন অতিথি হিসেবে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন অতএব ওই স্থানের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আপনারও সহযোগিতা পূর্ণ আচরণ করা জরুরী। 

তো পাঠক বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের আলোচনা। সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ সম্পর্কিত আরো যদি কোন প্রশ্ন থাকে কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ। 

নতুন দর্শনীয় স্থান