cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
মুছাপুর ক্লোজার মুছাপুর সমুদ্র সৈকত নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান নোয়াখালী সমুদ্র সৈকত musapur sea beach

আজকে কথা বলব মুছাপুর ক্লোজার, নোয়াখালী নিয়ে। যেটা নোয়াখালীর মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত। আপনারা যারা নিরিবিরি পরিবেশ পছন্দ করেন, সবুজে ঘেরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কাটাতে চান কিছু মুহূর্ত, যাদের বন্যপ্রাণী, পাখির ঝাক, নদী ও জোয়ার ভাটা ভালো লাগে তাদের জন্য উপযুক্ত একটি ভ্রমণ স্থান “মুছাপুর ক্লোজার”। 

যেটা ১৯৬৯ সালে পরিকল্পিতভাবে চালু হয় মোটামুটি তিন হাজার একর জমি জুড়ে। সেখানে রয়েছে হাজারো রকমের বৃক্ষরাজীর সমাহার ও নানা প্রজাতির দেশীয় পাখির বিচরণ। মূলত নদ-নদী সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ সেই সাথে জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি সবকিছু মিলিয়ে এক নয়াভিরাম সৌন্দর্যের নিদর্শন মুছাপুর ক্লোজারে। তো আপনি সেখানে পৌছাবেন কিভাবে, থাকবেন কোথায় এবং খাবেন কি সেই সাথে ভ্রমণ খরচ ও গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। 

মুছাপুর ক্লোজার, নোয়াখালী | মিনি কক্সবাজার খ্যাত মুছাপুর ক্লোজার কোথায় অবস্থিত?

মুছাপুর ক্লোজার নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে অবস্থিত। মূলত ছোট ফেনী নদী এবং মুছাপুর ক্লোজার এর অবস্থান একইসঙ্গে। যেটা বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পূর্ণ একটি ভ্রমণ স্থল হিসেবে অবস্থান করছে। আর সেখানে গেলে আপনি এমন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন যেটা বর্ণনা করার বাইরে। কেননা ওই স্থানটি এতটাই বাড়তি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শোভাবর্ধন করে। 

Musapur Closer এর প্রধান আকর্ষণ | নোয়াখালীর মুছাপুর ক্লোজারে কি রয়েছে?

যেকোনো স্থানে বেড়াতে যাওয়ার পূর্বে মানুষের প্রথম প্রশ্ন থাকে এটি। কেননা ভ্রমণের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করা। আর তাই যেকোন জায়গাকে বেছে নেওয়া হয় সেখানের দৃশ্যপট দেখে। আর মুছাপুর ক্লোজার এর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে– পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং তিন কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যেকোন স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত এর অসম্ভব সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ। 

এছাড়াও জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির সৌন্দর্যতা, তটরেখায় আছড়ে পড়া ছোট বড় ঢেউ, ঘন বজ জঙ্গল এবং বন জঙ্গলের সবুজ স্বভাবর্ধন গাছ এর সাথে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কোলাহল পূর্ণতা, সবমিলিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুন একটি পরিবেশের উপহার দিয়ে থাকে এই স্থানটি। 

তবে নির্দিষ্ট করে যদি এর প্রধান আকর্ষণীয় স্থান বা জিনিসের কথা বলা হয় তাহলে সমুদ্র ও নদীর পানিতে আচরে পড়া সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যটাই অন্যতম। আর এই কারণেই পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মুছাপুর ক্লোজার মিনি কক্সবাজার। 

মুছাপুর সমুদ্র সৈকত | নোয়াখালী ভ্রমণ | মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমণ

বর্তমানে নোয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলার হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমীদের আগমন ঘটে মুছাপুর সমুদ্র সৈকতে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলার মানুষও সেখানে ভিড় জমায় সুন্দর এক পরিবেশ উপভোগের ইচ্ছায়। কেননা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মুছাপুর ক্লোজার। সেখানে যেমন আপনি সমুদ্রের পাড়ের একটি মনোমুগ্ধকর সিনারি দেখতে পাবেন ঠিক একইভাবে বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে ট্রলার পাবেন। এক কথায় ট্রলারে চেপে পুরো বন ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে সেখানে। আর তাই জীবন বৈচিত্র্য পূর্ণ বনাঞ্চলের মেলবন্ধনে মুসাপুর ক্লোজার ভ্রমণ পিপাসুদের পর্যটকদের জন্য একটি আকাঙ্ক্ষিত অবকাশ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। 

মুছাপুরের ফরেস্ট বাগানে রয়েছে ঝাউ, লতা বল কেওড়া পিটালি খেজুর বনসাই শনবলই সহ রকমারি প্রজাতির গাছ। এছাড়াও শীতের মৌসুমে সুদূর থেকে আসা অতিথি পাখিদের আগমন এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। যেখানে আপনি বছরের যে কোন সময় ঘুরতে যেতে পারেন। তবে যদি মুছাপুর ক্লোজার, নোয়াখালী ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জানতে চান তাহলে বলবো শীতকাল। কেননা এই সময়ে আপনি অতিথি পাখিদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। 

তো এখন আসুন জেনে নেই মুছাপুর ক্লোজার এ পৌঁছাবেন কিভাবে এবং ভ্রমণ খরচ সম্পর্কে খুঁটিনাটি। আর হ্যাঁ, আমাদের এই ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড ও ভ্রমণ টিপস রিলেটেড। তাই আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বাংলা দেশের বিভিন্ন জেলার টুরিস্ট স্পোর্টস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। অথবা সরাসরি সাজেস্ট কৃত লিঙ্কে ক্লিক করে পড়ে ফেলতে পারেন উক্ত পোস্টগুলো। যেমন আন্দামানিক বান্দরবান, বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক, মাওয়া ফেরিঘাট, নুহাশ পল্লী, নিকলী হাওরগ্রিন ভ্যালি পার্ক সহ প্রভৃতি।

মুছাপুর সমুদ্র সৈকত যাওয়ার উপায় | মিনি কক্সবাজার মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমন খরচ

আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা আপনি কিভাবে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর এই জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন তা জানাবো। আর আপনি বাংলাদেশের যে জেলাতেই অবস্থান করেন না কেন বাসে অর্থাৎ সড়ক পরিবহনের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারবেন মিনি কক্সবাজার মুসাপুরে। মূলত ঢাকা ও নোয়াখালীর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করে। এজন্য তালিকা আকারে আমরা সংযুক্ত করছি বাসের নাম, বাস ছাড়ার সময়, বাস ভাড়া এবং যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর। 

পরিবহনকৃত বাসের নাম

বাস ছেড়ে দেওয়ার সময়

বাস ভাড়া জনপ্রতি

মোবাইল নম্বর

একুশে পরিবহন

ঢাকা মিরপুর থেকে ঠিক ৬.০০ নাগাদ রওনা দেয়। অন্যদিকে ঢাকার জিগাতলা থেকে রওনা দেয় ৬.৩০ মিনিটে এবং সায়দাবাদ থেকে রওনা দেয় ৭.৩০ মিনিটে। 

জনপ্রতি বাস ভাড়া ২০০ টাকা

০১৬৭৮০৪৭৩৮২

বিলাস পরিবহন

সায়দাবাদ কাউন্টার থেকে প্রতিদিন সকাল ৭:১৫ মিনিট থেকে ৮.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঠিক ১৫ মিনিট পর পর নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

জন প্রতি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা

০১৭১২৬৯৩৮৩৬

শাহী পরিবহন

সায়দাবাদ থেকে ঠিক 6:40 মিনিট এবং ৭.৪০ মিনিটে এবং জিগাতলা থেকে ৫.৪০ মিনিটে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

জন প্রতি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা

০১৯১৩৬২৮০৩৮

অতএব মুছাপুর ক্লোজার, নোয়াখালী যাওয়ার উপায় হচ্ছে একুশে, বিলাস ও শাহী পরিবহন বাস। আর হ্যাঁ এই বাসগুলো সাধারণত কোম্পানি গঞ্জের কাছে দাঁড়ায়। 

আর তাই সেখান থেকে আপনাকে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছাতে হবে বাংলা বাজারে অতঃপর দক্ষিণ এ চৌধুরী বাজার পার হয়ে ২ কিলোমিটার রাস্তা হয়ে চার রাস্তার মোড় দিয়ে পূর্ব দিকে জনতা বাজারের পর দক্ষিণে ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে কিছুটা পূর্বে গিয়ে পদার্পণ করতে হবে মুছাপুর ক্লোজারে।  এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি যদি নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ভ্রমণের যান এবং মুসাপুর ক্লোজার পৌঁছান তাহলে কোথায় থাকবেন?

মুছাপুর ক্লোজার, নোয়াখালীতে থাকার স্থান

সেখানে থাকার জন্য আপনি মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল এবং ভালো মানের গেস্ট হাউস পাবেন। কেননা নোয়াখালীতে মোটামুটি ভালো থাকার জায়গা রয়েছে। সেগুলোর নাম হচ্ছে—

  • সার্কিট হাউস
  • পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের হোটেল লিটন
  • হসপিটাল রোডে অবস্থিত নোয়াখালী গেস্ট হাউস
  • টাউন হল
  • রয়েল হোটেল
  • হোটেল রাফসান
  • পূবালী হোটেল
  • হোটেল আল মোরশেদ সহ প্রভৃতি। 

এর মধ্যে থেকে আপনি চাইলে তিনটি হোটেলের সাথে নিম্নবর্ণিত ফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। সেগুলো হলো–

  • পুবালি হোটেল– যোগাযোগ নম্বর (০৩২১-৬১২৫৭), 
  • হোটেল আল মোরশেদ–যোগাযোগ নম্বর (০৩২১-৬২১৭৩), 
  • হোটেল রাফসান– যোগাযোগ নম্বর (০৩২১-৬১৩৯৫)

তো সুপ্রিয় ভ্রমন প্রিয় অডিয়েন্স বন্ধুরা, আশা করছি আমাদের সংযুক্ত ইনফরমেশন গুলো মুছাপুর ক্লোজার নোয়াখালীতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। তো আপনি যদি মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমণের টোটাল খরচ জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন যে আপনি কোন জেলায় অবস্থান করছেন!

অথবা বাস ভাড়া, হোটেল ভাড়া এবং খাওয়া-দাওয়ার খরচ সবকিছু যোগ করে নিজেই আন্দাজ করে নিন যে মুছাপুর ক্লোজার মিনি কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য আপনার ঠিক কত টাকা খরচ পড়বে। আর যদি আমাদের কথা বলেন তাহলে বলব আপনি যে জেলাতেই অবস্থান করেন না কেন যদি সম্পূর্ণ ভালোভাবে এই স্থানটি ভ্রমণ করতে চান তাহলে আপনার বাজেট হতে হবে ৫০০০ টাকা। কেননা হোটেল ভাড়া গাড়ি ভাড়া বাস ভাড়া সবমিলিয়ে মোটামুটি পাঁচ হাজার টাকা ভ্রমণ খরচ লাগবে। 

তো সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। খুব শীঘ্রই আবারও নতুন কোন স্থানের আলোচনা নিয়ে আপনাদের সাথে কথা হবে। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ এবং আসসালামু আলাইকুম।

Facebook

নতুন দর্শনীয় স্থান