cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
মিনি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম

মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট, চট্টগ্রাম : সবুজে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর আমাদের এই দেশ। আর এই দেশের আনাচে-কানাচে যত স্থাপনা রয়েছে, তার সব কিছুরই সমাবেশ ঘটেছে মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট এ। যেটা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত এবং স্বাধীনতা কমপ্লেক্স নামে পরিচিত। 

তো আপনারা যারা এই শীতে বাংলাদেশের মধ্যেই ঘোরাফেরার চিন্তা করছেন সেই সকল ভ্রমণ প্রিয়াসি পাঠকদের জানাই স্বাগতম। আজ আমরা মিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে যাবতীয় ইনফরমেশন সংযুক্ত করব আমাদের পোস্টে। পাশাপাশি আরও জানাবো স্বাধীনতা কমপ্লেক্স অর্থাৎ মিনি কক্সবাজার এর এক্স্যাক্ট ঠিকানা, স্থান এর বিবরণ, ভ্রমণ খরচ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে এ টু জেড। 

মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট | মিনি বাংলাদেশ ভ্রমণস্থল

বাংলাদেশ স্বাধীন একটি দেশ। এই দেশের সৌন্দর্য ও রূপ-বৈচিত্র্যতা বরাবরই মানুষের দৃষ্টি কারে। আর বাংলাদেশের সকল স্থাপনা একসঙ্গে দেখা যায় মিনি বাংলাদেশে। যেটা শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স নামে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে মিনি বাংলাদেশ নামে অধিক বেশি খ্যাত। সেখানে রয়েছে সংসদ ভবন থেকে শুরু করে কান্তজির মন্দির, সুপ্রিম কোর্ট, আহসান মঞ্জিল, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কৃত্রিম জলরাশি, কার্জন হল, কান্তজীর মন্দির, দরবার হল, বড়কুঠি, ছোটকুঠি, ছোট সোনা মসজিদ, লালবাগ কেল্লা, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার, সেন্ট নিকোলাস চার্চ, চিরন্তন পল্লি, ট্রেনের নিচে ব্রিজ, ছয়টি কিউচ (বসার স্টল), পাঁচটি পানির ফোয়ারা ও তিনটি কিডস জোনসহ প্রভৃতি স্থাপনা। 

সাথে সেখানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে উপভোগ করা যায় চট্টগ্রাম পুরো শহর কর্ণফুলী নদী এবং বঙ্গোপসাগর। বিশেষ করে রাতের দৃশ্য একদমই মাথা নষ্ট করার মত। তাই আপনার যদি বাংলাদেশে অবস্থিত এমন স্থাপনার প্রতি আকৃষ্টতা থেকে থাকে তাহলে দেরি না করে এই শীতে ভ্রমণের জন্য বেছে নিন “মিনি বাংলাদেশ”। পাশাপাশি আপনি যদি বাংলাদেশের মিনি কক্সবাজার সম্পর্কিত বিষয়ে জানতে চান এবং ভ্রমণ খরচ ও ভ্রমণ টিপস পেতে চান তাহলে আমাদের সাজেকৃত লিংকে ভিজিট করুন.

মিনি বাংলাদেশ এর অবস্থান | মিনি বাংলাদেশ কোন দেশে অবস্থিত?

অনেকেই ভাবেন যে মিনি বাংলাদেশ অর্থাৎ স্বাধীনতা কমপ্লেক্স নামক এই স্থানটি বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত। আর তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য হর হামেশাই প্রশ্ন করে থাকেন মিনি বাংলাদেশ কোন দেশে অবস্থিত! 

মিনি বাংলাদেশ অর্থাৎ ছোট্ট বাংলাদেশ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এর পাশে অবস্থিত। মূলত এটির উত্তর-পূর্ব পাশে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র রয়েছে। আর তাই মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট এর অবস্থান লিখেও সার্চ করেন অনেকেই। 

অতএব আপনি যে জেলারই বাসিন্দা হয়ে থাকুন না কেন, চাইলে এইসেতেই ঘুরে আসতে পারেন মিনি বাংলাদেশ কালুরঘাট থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেখানে আপনি যাবেন কিভাবে? বিমান অর্থাৎ আকাশপথে, রেলপথে নাকি বাসে চেপে? আর যদি গিয়েও থাকেন তাহলে সেখানে থাকবেন কোথায় আর খাবেনই বা কি! 

তার সবটাই জানুন আর্টিকেলের পরবর্তী অংশটুকু পড়ার মাধ্যমে। পাশাপাশি চৌষট্টিটি জেলার আনাচে-কানাচে থাকা ভ্রমণি স্থান সম্পর্কে জানতে, ভ্রমণ গাইডলাইন পেতে পাশাপাশি হোটেল ও রিসোর্ট এর ইনফরমেশন সংগ্রহ করতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের habibweb.com ।

মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট যাওয়ার উপায় | মিনি বাংলাদেশে কিভাবে যাবেন?

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পর্যটক স্থলে পৌঁছাতে পারবেন তিনটি মাধ্যম বা উপায়ে। সেগুলো হলো

  •  ট্রেন বা রেল যোগাযোগ মাধ্যম
  • বাস অর্থাৎ সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম ও 
  • আকাশ পথ যোগাযোগ মাধ্যম

মিনি বাংলাদেশে রেলপথে পৌঁছানোর উপায়

প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে। আর তাই নির্দিষ্ট সময়ে আপনি ট্রেনে অর্থাৎ রেলপথে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পারবেন আর চট্টগ্রাম থেকে যেকোনো সিএনজি বা বাসে চেপে পৌঁছাতে পারবেন মিনি বাংলাদেশ কালুরঘাটে। এ পর্যায়ে আমরা ট্রেনের নাম এবং ট্রেনের যাতায়াতের সময়সূচি জানিয়ে দেব। যার ফলে আপনি দিনের যেকোনো সময় মিনি বাংলাদেশের রেলপথে পৌঁছাতে পারবেন। 

  • ট্রেনের নাম: মহানগর প্রভাতী ঢাকা, রওনা হওয়ার সময় সকাল ৭ টা ৪০ মিনিট।
  • ট্রেনের নাম: চট্টলা এক্সপ্রেস, রওনা হওয়ার সময় ৯টা ২০ মিনিট।
  • ট্রেনের নাম: মহানগর গোধূলি, রওনা হবার সময় বিকেল ৩ টা।
  • ট্রেনের নাম: সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা, রওনা হওয়ার সময় বিকেল ৪ টা ২০ মিনিট।
  • ট্রেনের নাম: তূর্ণা ঢাকা, রওনা হবার সময় রাত সাড়ে ১১ টা। 

ট্রেন পথে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর ভাড়া: এই প্রত্যেকটি ট্রেনে আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে জন প্রতি ১৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। 

মিনি বাংলাদেশে আকাশ পথে পৌঁছানোর উপায়

যাদের বিমানে চলাচল করতে ভালো লাগে তারা চাইলে মিনি বাংলাদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকা টু চট্টগ্রাম বিমানে চেপেও যেতে পারেন।  কেননা ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান (০২-৯৫৬০১৫১-১০), ইউনাইটেড এয়ার (০২-৮৯৫৭৬৪০),জিএমজি এয়ারলাইনস (০২-৮৯২২২৪৮) ও রিজেন্ট এয়ারে (০২-৮৯৫৩০০৩) সরাসরি চিটাগং অর্থাৎ চট্টগ্রাম পৌঁছানো সম্ভব হয়। 

সড়কপথে মিনি বাংলাদেশ কালুরঘাটে পৌঁছানোর উপায়

ঢাকা টু চট্টগ্রাম এর বেশ কয়েকটি বাস রয়েছে। তাই বাসে জার্নি করতে চাইলে আপনি মিনি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য সড়ক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য আপনাকে যে সকল বাস সহযোগিতা করবে সেগুলো হলো – কমলাপুর টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি করে আর সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাস । গ্রিনলাইন (০২-৭১০০৩০১), সোহাগ (০২-৯৩৪৪৪৭), সৌদিয়া (০১১৯৭০১৫৬১০), টি আর (০২-৮০৩১১৮৯), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১) ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাসও চট্টগ্রাম যায়। তাই এসি নন এসি দুই ধরনের বাসেই যাতায়াত করতে পারবেন। 

বাসে করে সড়কপথে মেনি বাংলাদেশে পৌঁছানোর খরচ: বাসে করে যদি আপনি চট্টগ্রামে পৌঁছান তাহলে মোটামুটি ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০০ টাকা খরচ করতে হবে। একেক বাসের এক এক খরচ। এসি এবং নন-এসি বাসের কারণে মূলত বাসভারার তারতম্যতা হয়ে থাকে। তাই কোন বাসে যাচ্ছেন টিকিট কাটার পূর্বে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন। 

আর যদি আপনি চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছে থাকেন তাহলে চট্টগ্রামের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি কিংবা অটোরিকশা করে খুব সহজেই সামান্য কিছু ভাড়া প্রদান করার মাধ্যমে পৌঁছে যেতে পারেন কালুরঘাট মিনি বাংলাদেশ পার্কে। আবার শহরের যে কোন স্থান থেকে সেখানে বাসে করে সরাসরি কালুরঘাট পার্কের সামনেও নামতে পারেন। 

থাকবেন কোথায় এবং খাবেন কি?

মিনি বাংলাদেশ, কালুরঘাট পার্কে পৌঁছানোর উপায় না হয় জানলাম। কিন্তু আপনি যদি সেখানে একটি রাত থাকতে চান তাহলে কোথায় থাকবেন আর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কিভাবে বা করবেন? সত্যি বলতে চট্টগ্রামে থাকার জন্য নানান মানের হোটেল রয়েছে। তাই টাকার উপর নির্ভর করে আপনি কোন হোটেলে থাকবেন সেটা নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে। তবে সেখানের সবচেয়ে পরিচিত কম বাজেটের কয়েকটি হোটেল হচ্ছে–

  • হোটেল প্যারামাউন্ট
  • হোটেল ল্যান্ডমার্ক
  • হোটেল এশিয়ান এসআর
  • হোটেল নাবা ইন
  • হোটেল সাফিনা

তো আপনি যদি এই হোটেল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চান অথবা যোগাযোগ করতে চান তাহলে বুকের জন্য সরাসরি আমাদের সাজেস্ট কৃত নম্বরে কল করতে পারেন। কেননা এ পর্যায়ে আমরা হোটেলের নামের সাথে ভাড়া ও যোগাযোগ নম্বর সংযুক্ত করব। 

  • হোটেল প্যারামাউন্ট: ভাড়া নান এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা। বুকিং এর জন্য : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪
  • হোটেল ল্যান্ডমার্ক: ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা। বুকিং এর জন্য: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭
  • হোটেল এশিয়ান এসআর: এসি : ১৭২৫ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫
  • হোটেল নাবা ইন: ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২
  • হোটেল সাফিনা: ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ১৩০০ টাকা। বুকিং এর জন্য -০৩১-০৬১৪০০৪

আর চট্টগ্রামে খাওয়ার জন্য রয়েছে ছোট বড় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খাবারও খাওয়ার সুযোগ রয়েছে সেখানে। আমার জানামতে আপনি চট্টগ্রাম গেলে ভালো মানের খাবার পেতে অবশ্যই  যাবেন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরায়। এছাড়াও আরো আছে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। 

তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, মিনি বাংলাদেশ কালুরঘাট এর ভ্রমণ সম্পর্কিত আলোচনার সমাপ্তি টানছি আজ এখানেই। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ। 

নতুন দর্শনীয় স্থান