cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
Kolatoli Beach

কলাতলী বীচ (Kolatoli Beach) কক্সবাজার হলো সমুদ্র সৈকতের নিকটতম একটি স্থান, যাকে কলাতলী পয়েন্ট বলেও সম্বোধন করা হয়। ভ্রমণ প্রিয়াসি মানুষের কাছে সমুদ্র সর্বদা পছন্দের তালিকায় থাকে। ঠিক এ কারণে কমবেশি সকলেই চায় সমুদ্রের পাড়ে বসে একান্ত কিছু সময় কাটাবার। 

সমুদ্র বিলাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে সূর্যাস্ত দেখা। নীল দিগন্ত আকাশে রক্তাক্ত লাল বর্ণের সূর্যের অস্ত যাওয়া সত্যিই সমুদ্রের সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর সেই স্থানটি যদি হয়ে থাকে কলাতলী সি বিচ, তাহলে তো কোন কথাই নেই। 

কেননা কলাতলী বীচ কক্সবাজারে, দেখার মতো রয়েছে দারুণ কিছু। এ কারণে আজকের এই টপিকে আমরা কলাতলী বীচ কক্সবাজার সম্পর্কে খুঁটিনাটি আলোচনা করব। আপনারা যারা এই শীতে পরিবারের সাথে অথবা একান্ত প্রিয়জনের সাথে ভ্রমণে যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য সেরা ভ্রমণ স্থান হতে পারে কলা তলী বীচ কক্সবাজার। 

কলাতলী বীচ (Kolatoli Beach) কক্সবাজার এর অবস্থান

কক্সবাজার উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান কলাতলী সি বিচ। বলা যায় কক্সবাজার সদরের নিকটতম আরেকটি সমুদ্র সৈকত এটি। যেটা কলাতলী পয়েন্ট হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত, যার অবস্থান মূলত কক্সবাজারের এরিয়ার মধ্যে। 

কলাতলী বীচ কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ

কক্সবাজারে চারটি বীচ রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে কলাতলী বীচ (Kolatoli Beach) কক্সবাজার। কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত এই সি বীচে– সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রয়েছে দারুণ কিছু। 

আর তাছাড়াও সমুদ্রের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে পানি, হিমেল হাওয়ার পরশ অনুভূতি আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্যতা। মূলত কক্সবাজারের অন্যান্য বীচ গুলোর তুলনায় কলাতলী সী বিচ পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছে। এর কারণ সেখানের সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। 

এছাড়াও পর্যটন স্থানগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন সেখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা কেমন, সেখানে বিশেষ কোনো স্থান বা বিশেষ কোন মুহূর্ত উপভোগের সুব্যবস্থা রয়েছে কিনা, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

তো আসুন আলোচনার এ পর্যায়ে জেনে নেই– কলাতলী বীচ কক্সবাজারে আপনি কিভাবে পৌঁছাবেন, সেখানে কোথায় থাকবেন কি খাবেন এবং কলাতলী বীচে পৌঁছাতে আপনার কত টাকা খরচ পড়বে এ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য । 

কলাতলী বীচে পৌঁছানোর মাধ্যম

কলাতলী বীচ – কক্সবাজারের সবচেয়ে নিকটতম একটি স্থান। যেখানে পৌঁছাতে আপনি রিক্সা, অটোর সহযোগিতা নিতে পারেন। এমনকি এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার পা-ও সহযোগিতা করতে পারবে। মানে আপনি কক্সবাজার থেকে কলাতলী বীচ কক্সবাজারে পায়ে হেঁটেও পৌঁছাতে পারবেন। 

অতএব কলাতলী বীচে পৌঁছানোর মাধ্যম হচ্ছে অটো রিক্সা ও পর্যটকদের নিজস্ব পা। যারা হাঁটতে পছন্দ করেন এবং হেঁটে হেঁটে সৌন্দর্য উপভোগ করার একটি দারুণ বদঅভ্যাস রয়েছে তাদের জন্য পারফেক্ট স্থান কলাতলী সী বিচ বা কলাতলী পয়েন্ট। 

কলাতলী বীচ হোটেল

কলাতলী সী বিচে থাকার জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর হোটেল। সেই সাথে এই বীচে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট সহ আরো অনেক পর্যটন সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদনী রাতে বীচের উপর দিয়ে হাঁটা সত্যি রোমাঞ্চকর। আর এই স্থানটি সকল বয়সী মানুষের জন্য একদমই উপযুক্ত স্থান। 

এই বীচে থাকা খাওয়ার জন্য যেমন সুন্দর সুন্দর হোটেল রয়েছে, ঠিক একইভাবে এমন অনেক দোকান রয়েছে যেখান থেকে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর জিনিস কিনে নেওয়া সম্ভব। যেমন ধরুন–  শামুক ঝিনুক, মাছ কাকড়া এবং কসমেটিকসের যাবতীয় জিনিসপত্র। 

কলাতলী বীচ কক্সবাজারের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

এই বীচে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের হোটেল, খাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্ট এবং কেনাকাটার জন্য সুন্দর সুন্দর দোকানপাট রয়েছে। এটাই মূলত অন্যতম সুযোগ-সুবিধার মধ্যে একটি। 

এছাড়াও সমুদ্রের পাড় থেকে দেখা যায় অনেক জাহাজ এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। আর এরই মধ্যে আমরা তো এটা উল্লেখ করেছি, যে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কারে কলতলী বীচ কক্সবাজর। 

আর এখানে থাকা খাওয়ার ভালো ব্যবস্থাপনা থাকার কারণে পর্যটকরা সমুদ্রের জোয়ার ভাটা দেখার সঠিক সময়সীমা জানতে পারে এবং সেখানে পরিবেশটাকে সর্বক্ষণ উপভোগ করার সুযোগ পায়। 

কলাতলী সী বিচ ভ্রমণ খরচ

আপনি যদি কক্সবাজার ভ্রমণে যান তাহলে সেখান থেকে কলাতলী সী বিচে যেতে খুব সামান্য টাকা খরচ হবে। এমনকি এক টাকাও খরচ না করলেও আপনি কলাতলী বীজ বা কলাতলী পয়েন্ট এ পৌঁছাতে পারবেন। আর ইতোমধ্যে তো এটা উল্লেখ করেছি যে কলাতলী বীচ কক্সবাজারে পৌঁছানোর মাধ্যম বা উপায় কি! 

তো সুপ্রিয় দর্শক বন্ধুরা, এই ছিল আমাদের আজকের আলোচনা পর্ব। আপনি যদি কক্সবাজারে কখনো ট্যুরে যান তাহলে অবশ্যই কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে আসতে ভুলবেন না। এছাড়াও কক্সবাজারের আরো কিছু সুন্দর দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেমন—

  • লাবনী বিচ
  • সুগন্ধা বীচ 
  • হিমছড়ি
  • ইনানী বিচ
  • বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
  • রামু
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড সহ প্রভৃতি।

তাই আমরা সাজেস্ট করব, কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে যদি আপনি পুরোপুরি ভাবে উপলব্ধি করতে চান এবং সময় ও টাকার সঠিক ব্যবহার করতে চান তাহলে এই প্রত্যেকটি স্থান একবারের জন্য হলেও ঘুরে আসুন। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং ভ্রমণ সম্পর্কিত এই ধরনের আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ।  

নতুন দর্শনীয় স্থান