cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
গ্রীন ভ্যালী পার্ক green valley park

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মনোমুগ্ধকর একটি অন্যতম স্থান গ্রীন ভ্যালী পার্ক (green valley park), যা নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার সদর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত দর্শনীয় এবং সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানগুলোর মধ্যে বর্তমানে একটি অন্যতম চমৎকার বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত স্থান “গ্রীন ভ্যালী”। 

যেখানে উপভোগের জন্য রয়েছে দারুণ রাইডের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, যে স্থানটিতে পা রাখতেই মনে হয়– বাংলার বুকে এক পশলা শীতল পরশ বুলিয়ে দিতেই যেন তৈরি হয়েছে গ্রীন ভ্যালী পার্ক। 

গ্রীন ভ্যালী পার্ক লালপুর দর্শনীয় স্থান

গ্রীন ভ্যালী পার্ক লালপুর -এ দেখার মত রয়েছে অনেক কিছু। কেননা ১২০ বিঘা জমির উপর তৈরিকৃত এই পার্কটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো। আপনি যদি ভ্রমণ প্রেমী হয়ে থাকেন এবং বাংলাদেশে অবস্থান করেন, তাহলে একবারের জন্য হলেও ভ্রমণ করা প্রয়োজন লালপুর উপজেলার নাটোর গ্রীন ভ্যালী পার্কটি। 

কেননা সেখানে রয়েছে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় রাইড এর সুব্যবস্থা। সেখানে আপনি নাগরদোলা, ম্যারিগো রাউন্ড, বুলেট ট্রেন, মিনি ট্রেন, স্পিডবোট, প্যাডেল বোট, হানি সুইং এবং পাইরেটশিপ সহ প্রভৃতি রাইড গুলো চিত্তবিনোদনের জন্য উপভোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, গ্রিন ভ্যালি পার্কে রয়েছে পিকনিক স্পট, শুটিং স্পট, কনসার্ট এন্ড প্লেগ্রাউন্ড, কার পার্কিং, ক্যাফেটেরিয়া, সভা-সেমিনারের স্থান সহ প্রভৃতি। 

তাই প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর স্থান বিলাসের জন্য এবং অ্যাডভেঞ্চার রাইডস উপভোগের জন্য হলেও একবার যাওয়া উচিত গ্রীন ভ্যালি পার্কে। এবার আসুন জেনে নেই– গ্রীন ভ্যালিতে প্রবেশের টিকিট মূল্য ও সময়সূচী, সেখানে যাওয়ার মাধ্যম, রাত্রিযাপনের স্থান এবং আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে খুঁটিনাটি। 

গ্রিন ভ্যালির টিকিট মুল্য

গ্রীন ভ্যালী পার্ক এ প্রবেশের টিকিটের মূল্য মাত্র ৫০ টাকা এবং সময়সূচী সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এই পার্কটি সাধারণত সপ্তাহে ৭ দিন খোলা থাকে।  তবে গ্রীন ভ্যালী পার্ক এ প্রবেশের টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা হলেও অন্যান্য আরো কিছু টিকিট কাটার প্রয়োজন পরে, যেগুলোর সম্ভাব্য খরচ নিম্নে উল্লেখিত। যথা —

টিকেট এর নাম টিকেট মূল্য
ওয়াটার পার্ক টিকেট মূল্য ৩০০ টাকা
ওয়াটার পার্ক লকার ফি টিকেট  মূল্য ৫০ থেকে ৫০০ টাকা
গাড়ি পার্কিং ফি টিকেট  ১০ থেকে ৩০০ টাকা
রাইড ফি টিকেট  সর্বনিম্ন ৩০ থেকে ৫০ টাকা

আর হ্যাঁ, গ্রিন ভ্যালি পার্কে সাধারণত ওয়াটার পার্ক টিকেট বারোটা থেকে চারটা পর্যন্ত প্রদান করা হয়। অতএব আপনি দুপুর ১২ টার আগে এবং বিকেল চারটার পরে এই টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন না। তাই যদি ওয়াটার পার্ক ভ্রমণের ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলে উক্ত সময়ের মধ্যে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন এবং টিকিট সংগ্রহ করুন। 

গ্রীন ভ্যালি পার্কে কিভাবে যাবেন

নাটোর গ্রীন ভ্যালি পার্কে আপনি মূলত বাস এবং ট্রেনে করে ভ্রমণে আসতে পারেন। মনে করুন, আপনি ঢাকার বাসিন্দা মূলত সেক্ষেত্রে– ঢাকার কল্যানপুর গাবতলী মহাখালী কলাবাগান থেকে নাটোরে আসার বাসে আসতে পারেন। মূলত 

✓ ন্যাশনাল ট্রাভেলস

✓দেশ ট্রাভেলস

✓শ্যামতলি ট্রাভেলস

✓তুহিন ট্রাভেলস

✓একতা ট্রাভেলস

✓গ্রামীণ ট্রাভেলস 

এই লাইনগুলোতে যাতায়াত করতে পারেন। 

অন্যদিকে যদি ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান সেক্ষেত্রে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। কেননা বেশকিছু ট্রেন রয়েছে যারা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা কমলাপুর থেকে নাটোর রেলস্টেশনে যাতায়াত করে। যেমন –

  • নীলসাগর ট্রেন যাত্রা শুরু করে সকাল ৮ টা নাগাদ এবং তা পৌঁছায় দুপুর ১ টা ৫ মিনিটে। 
  • রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে সকাল ৯ টা নাগাদ এবং পৌঁছায় দুপুর ১ টা ৫৮ মিনিটে
  • একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে সকাল ১০ টা নাগাদ এবং তা পৌঁছায় দুপুর ৩ টা ২ মিনিটে

এছাড়াও দ্রুতযান এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে নাটোরগামী হয়। আর হ্যাঁ প্রত্যেকটি ট্রেনের ভাড়া নির্ধারিত থাকে ৩৪০ টাকা। অন্যদিকে আপনি যদি বাসে যাতায়াত করেন সেক্ষেত্রে ভাড়া মোটামুটি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। 

এক কথায় আপনি ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে এবং ট্রেনে করে গ্রিন ভ্যালি পার্কে যেতে পারেন। আর হ্যাঁ, কমবেশি এটা অনেকেই জানেন কোন প্রকার খাবার সাথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না গ্রিন ভ্যালি পার্কে। ঠিক এ কারণে কোথায় থাকবেন এবং কোথায় খাবেন এ ব্যাপারে জানতে নিচের অংশটুকু পড়ুন। 

কোথায় থাকবেন | কোথায় খাবেন 

নাটোরে মূলত ভালো মানের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তাই আপনি খুব সহজেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন। নাটোরের ভালো মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলো হলো –

  • হোটেল ভিআইপি
  • হোটেল প্রিন্স
  • হোটেল রাজ
  • হোটেল রুকসানা
  • হোটেল মিল্লাত
  • পচুর হোটেল সহ-প্রভৃতি।

অন্যদিকে নাটোরের জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট–

  • কুইন্স রেস্টুরেন্ট
  • ড্রিম গ্রিল রেস্টুরেন্ট
  • সাহারা প্লাজা রেস্টুরেন্ট 

আর এই প্রত্যেকটির মধ্যে কম খরচে খাওয়ার জন্য ইসলামিয়া প্রচুর হোটেল ও রেলস্টেশনের কাছে নয়ন হোটেলের খাবারের বেশ সুনাম রয়েছে। তাই আপনি খাওয়া এবং থাকার জন্য এ সকল হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

আবার অনেকেই ধারণা পাওয়ার জন্য প্রশ্ন করে থাকেন যে থাকার জন্য কত খরচ পরবে? আপনি যদি নাটোরে মোটামুটি ভালো মানের আবাসিক হোটেলে অথবা বোডিং এ থাকতে চান সেক্ষেত্রে সিঙ্গেল অথবা ডাবল কেবিনের জন্য ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ পরবে। এক কথায় খুব অল্প টাকার মধ্যে গ্রীন ভ্যালী পার্ক ভ্রমণ করতে পারবেন আপনি। 

তো পাঠক বন্ধুরা, আজ এ পর্যন্তই। গ্রিন ভ্যালি পার্ক ভ্রমণ সম্পর্কিত আরো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

নতুন দর্শনীয় স্থান