cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
Buriganga Eco Park বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক (Buriganga Eco Park) হচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকাতে অবস্থিত একটি সুন্দর বিনোদনমূলক স্থান। যারা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে নতুন তৈরি হওয়া পার্ক বা সুন্দর টুরিস্ট স্পটগুলো ঘুরে দেখতে চান, তাদের জন্য “বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক” আদর্শ একটি স্থান হতে পারে। 

বিশেষ করে ঢাকার কোলাহল পূর্ণ শহর ছেড়ে যদি স্নিগ্ধ শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে চান তাহলে আপনার জন্য পারফেক্ট জায়গা হবে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক। কেননা এই স্থানটি এতটাই সুন্দর, মনমুগ্ধকর এবং শান্তিপূর্ণ। আজকের এই নিবন্ধে আমরা, বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক সম্পর্কে খুঁটিনাটি ইনফরমেশন সংযুক্ত করব। 

তো আপনি যদি বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক ভ্রমণ গাইডলাইন পেতে চান, তাহলে পোস্টটি সম্পন্ন পড়ুন। কেননা আজ আমরা বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি, সেখানে দেখার মত স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করার পাশাপাশি থাকা, খাওয়া ও যাওয়ার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও জানাবো খুঁটিনাটি । যা জানার মাধ্যমে আপনার বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক ভ্রমণটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। 

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক (Buriganga Eco Park) | বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক এর অবস্থান

“বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক” এটিই বর্তমানে ডিআইডব্লিউটিএ ইকো পার্ক নামে পরিচিত। কেননা এর নাম পরিবর্তিত করে রাখা হয়েছেডিআইডব্লিউটিএ। রাজধানীর উপকণ্ঠে শ্যামপুরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই পার্ক। যেটা ২০১২ সালের দিকে প্রায় অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউবিটিএ) মোটামুটি ২.৩ একর জমির উপরে নির্মাণ করে এই পার্কটি। যা কিছুদিন আগেও এলাকার মানুষের বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার একমাত্র স্থান ছিল। 

কেননা সেখানে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালি এবং সুন্দর একটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ। কিন্তু সেই জায়গাটি এখন বাণিজ্যিক পার্ক হিসেবে জায়গা দখল করেছে এবং সবুজ বৃক্ষরাজের পার্কের পরিবেশ বদলে বিনোদনের জন্য যুক্ত হয়েছে ছোট বড় বিভিন্ন স্থাপনা। 

মূলত বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক এর এগজ্যাক্ট ঠিকানা হচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকা। আপনি যদি যে কোন জেলা থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়া থানাতে পৌঁছাতে পারেন তাহলে সেখান থেকে ৭০০ মিটার দূরেই অবস্থিত জনপ্রিয় এই পার্কটি। যার নাম বললে যে কেউ চিনবে সেখানে স্থানীয়রা। এখন আসুন জেনে নেই– বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক এ দেখার মত কি কি রয়েছে!

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক (Buriganga Eco Park) এর প্রধান আকর্ষণ

যেহেতু আপনি সুন্দর একটা সময় কাটানোর জন্য পার্কে ঘুরতে যাবেন, তাই অবশ্যই বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কের প্রধান আকর্ষণ কি, সেইসাথে আপনি এই স্থানটিতে গেলে কি কি বিষয় জানতে পারবেন বা কি কি জিনিস দেখতে পারবেন সে সম্পর্কে অল্প সল্প হলেও ধারণা রাখা প্রয়োজন। কেননা এতে করে ভ্রমণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। 

আমরা সবাই কম বেশি জানি যে– ঢাকার পরিবেশটা অনেক বেশি কোলাহলপূর্ণ এবং যান-জটে ভরাট। সারাদিন গাড়ির শব্দ, সেই সাথে অন্যান্য আরো যান্ত্রিক শব্দের কারণে শহরের মানুষ প্রায় অতিষ্ঠ। আর সেইসকল মানুষ যদি কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে চায়, তাহলে তাদের জন্য সবচেয়ে সুন্দরতম স্থান হচ্ছে “বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক”। 

এর কারণ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের নিকটে রাখা এবং কোলাহলপূর্ণ শব্দ থেকে মানুষকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই তৈরি রাজধানীর বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক। সেখানে গেলে আপনি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ সুন্দর গাছ দেখতে পাবেন, পাশাপাশি বিভিন্ন রাইডস এ চড়তে পারবেন।

কেননা সেখানে প্রায় 24 টির বেশি আকর্ষণীয় রাইডস রয়েছে। পাশাপাশি আরও রয়েছে নৌঘাট, বসার জন্য সুন্দর সুন্দর স্থান, ফুড কোর্ট এবং চমৎকার নদীর তীর। যেটা আপনাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নিরিবিলি গ্রামীন পরিবেশের সান্নিধ্যে নিয়ে যাবে। 

মূলত সবুজে ঘেরা একটু আলাদা আঙ্গিকে তৈরি হওয়া এই পার্কটি এ-কারণেই অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা দখল করেছে। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি পরিবারের সাথে একটু আলাদা আঙ্গিকে কাটাতে যে কেউ বেছে নিতে পারেন বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক। 

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক যাওয়ার সময়সূচি

সপ্তাহে ৭ দিন বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক খোলা থাকে। অতএব আপনি যেকোনদিন সেখানে যেতে পারবেন। এই পার্কটি সাধারণত প্রতিদিন সকাল আটটা নাগাদ খুলে এবং রাত আটটা নাগাদ বন্ধ হয়ে যায়। 

অতএব এই সময়ের মধ্যেই আপনাকে সেখানে পৌঁছাতে হবে। যেহেতু সপ্তাহের সাত দিন বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক খোলা থাকে, তাই যারা চাকরিজীবী মূলত সপ্তাহিক ছুটিতে পরিবার ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে খুব সহজেই সেখানে ঘুরে আসতে পারবেন। 

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক এর প্রবেশ মূল্য

যেকোনো পার্কে প্রবেশ করতে নির্দিষ্ট মূল্য প্রদান করার বিনিময়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। আর আপনি যদি বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে প্রবেশ করতে চান তাহলে সেই প্রবেশ টিকেটটি সংগ্রহ করতে খরচ পরবে জন প্রতি ৩০ টাকা। কারণ সেখানে ছোট বড় সকলের জন্য প্রবেশ টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। 

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে রাইডস টিকিট মূল্য

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে প্রায় 24 এর বেশি আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে। মূলত পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে এই রাইডসগুলো। কেননা এগুলো শিশুদের খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। তো আপনি যদি বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক শ্যামপুরে গিয়ে ওই রাইড গুলোতে চড়তে চান, সেক্ষেত্রে প্রায় ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হবে এক একটি রাইডে চড়তে। কেননা রাইডস ভেদে টিকিট মূল্য একেক এমাউন্টের। 

তবে হ্যাঁ, যদি কোনো কারণে আপনি সেখানে নিকটস্থ কোন আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে থাকেন বা দুই দিনের ট্যুরে যান, তবে ভোরবেলা মর্নিং ওয়ার্ক কিংবা খেলাধুলার উদ্দেশ্যে ওই পার্কে বিনা টিকিটে প্রবেশ করতে পারবেন। কারণ সকালবেলা পার্কে আগমনকারীদের কোন প্রবেশ ফি প্রদান করতে হয় না। 

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কে যাবেন কিভাবে, থাকবেন কোথায় এবং খাবেন কি?

আপনি বাংলাদেশের যে জেলাতেই অবস্থান করেন না কেন, সেখান থেকে যদি রাজধানী শহরের এই জনপ্রিয় ইকো পার্কে পৌঁছাতে চান তাহলে আপনাকে ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা তে যেতে হবে। কেননা সেখান থেকে ঠিক ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত Biwta Eco Park। সেখানে নিজস্ব গাড়ি বা বাসে করে যাত্রাবাড়ী এসে শ্যামপুরের বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে খুব সহজেই পৌঁছানো সম্ভব হয়। 

আর হ্যাঁ, যদি সেখানে থাকা বা খাওয়ার কথা বলেন তাহলে বলবো — ইকো পার্কের আশেপাশে বেশ ভালো মানের হোটেল এর সন্ধান মিলবে। তবে আপনি চাইলে বাসায় থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে গিয়েও সেখানে খেতে পারেন। আর থাকার জন্য সেখানে হয়তো কোনো ভালো মানের আবাস স্থলের হলের সন্ধান মিলবে না , তাই আশেপাশে নিকট আত্মীয়দের বাসা থেকে বা ঢাকার কিছুটা দূরে অবস্থান করে যেতে পারবেন বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কে। 

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক ভ্রমণ খরচ

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার কত টাকা খরচ পড়বে, সেটা আপনাকেই আন্দাজ করতে হবে। কেননা আপনি কোন জেলায় অবস্থান করছেন তার ওপর ভিত্তি করে খরচের পরিমাণটা কম অথবা বেশি হবে। তবে ইতোমধ্যে আমরা বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক এর প্রবেশ মূল্য কত টাকা, সেইসাথে রাইডস এ চরলে কত টাকা খরচ পড়বে সে সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেছি। আশা করছি এতোটুকুই যথেষ্ট। 

তো সুপ্রিয় অডিয়েন্স বন্ধুরা, এই ছিল বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক ভ্রমণ গাইড লাইন সম্পর্কিত আমাদের আজকের আলোচনা। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন পাশাপাশি ভ্রমণ সম্পর্কিত বিভিন্ন পোস্টের নোটিফিকেশন পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করবেন। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ। 

 

নতুন দর্শনীয় স্থান