cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
andharmanik bandarban আন্ধারমানিক বান্দরবান

আন্ধামানিক বান্দরবান (Andharmanik Bandarban): রহস্য উন্মোচিত মানুষদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্যস্থল আন্ধারমানিক। আপনি হয়তো জানবেন, ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ এলাকা ও রহস্যময় জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আন্ধারমানিক বান্দরবান। কিন্তু কি রয়েছে সেখানে, কেনই বা নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এই জায়গাটি! আসুন এ সম্পর্কে জানি বিস্তারিত। পাশাপাশি আরও জেনে নেই– আন্ধারমানিক কেন পর্যটকদের কাছে একটি প্রিয় ও সুন্দরতম পর্যটকস্থল।

আন্ধারমানিক বান্দরবান (andharmanik bandarban | আন্ধারমানিক এর অবস্থান

বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বড় মদক এর পরে অবস্থিত একটি জায়গা আন্ধারমানিক। যেটি বাংলাদেশের সাউদার্ন কর্নারে অবস্থিত, যে কারণে সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না বললেই চলে। আর তাই অধিকাংশ সময় স্থানটি অন্ধকারে আচ্ছাদিত থাকার কারণে নাম হয়েছে আন্ধার মানিক। 

কিন্তু সেখানেই রয়েছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় ও স্নিগ্ধতা,  যা আপনি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। বান্দরবানের আন্ধারমানিক নামক এই স্থানটি এতটাই সুন্দর যে, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে একটু ভিন্নভাবে অনুভব করতে একবারের জন্য হলেও সেখানে যাওয়া উচিত।  

তবে তার আগে আসুন জেনে নেই,আন্ধারমানিক কেন নিষিদ্ধ এবং ধারাবাহিকভাবে আরও জেনে নেই– সেখানে পৌঁছানোর মাধ্যম বা উপায়, যাতায়াত ও ভ্রমণ খরচ, যাওয়ার উপযুক্ত সময় এবং ভ্রমণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস। যেগুলো আন্ধারমানিক ভ্রমণে অনেক বেশি সহযোগিতা করবে আপনাকে। পাশাপাশি আরও দেখুন– বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট পৌঁছানোর উপায়, ভ্রমণ খরচ ও ভ্রমণ সম্পর্কিত টিপসসমূহ। 

আন্ধারমানিক কেন নিষিদ্ধ?

গহীন অরণ্য, বন্যপ্রানীর ভয় এবং মিয়ানমারের আরকান বাহিনী সহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের আনাগনার কারণে আন্ধারমানিক স্থানটি নিষিদ্ধ। তবে যারা রহস্য উন্মোচন করতে চান, ভয় কে কাটিয়ে আন্ধারমানিকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান এবং আশঙ্কা জনক বিপদকে মোকাবেলা করতে চান তাদের জন্য পারফেক্ট টুরিস্ট স্পট হতে পারে এটি। 

হ্যাঁ এটা সত্যি, সেখানে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই বিপদ রয়েছে। তবে এটাও সত্যি আন্ধার মানিকের সৌন্দর্য যেমন আপনার হৃদয় হরণ করবে ঠিক সেখানকার রহস্য কৌতূহল অনেক বেশি বাড়িয়ে দেবে। এতদিন পর্যন্ত সেখানে বিজিবি ক্যাম্প রয়েছিল কিন্তু এখন সেটা না থাকার কারণে নিরাপত্তার খাতিরে আন্ধার মানিক স্থানটিকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হচ্ছে না। 

কিন্তু তবুও এমন অনেক পর্যটকেরা রয়েছেন, যারা এখনো ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন সেখানে। এমন কি রয়েছে আন্ধার মানিকে, কেমন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে, কিইবা ঘটতে পারে এমনই উৎফুল্লতা এবং আগ্রহ নিয়ে হাজারো পর্যটকের আনাগোনা আন্ধার মানিকে। আর আপনিও যদি তাদের মধ্যে একজন হতে চান তাহলে জেনে নিতে পারেন আন্দার মানিকের আকর্ষণীয় স্থানসমূহ এবং সেখানে যাওয়ার বিষয়ে এ টু জেড।

আন্ধারমানিকের সৌন্দর্য | আন্ধারমানিক এর প্রধান আকর্ষণ

অনিন্দ্য সুন্দর আন্ধার মানিক, যেখানে সূর্যের আলো খুব কম পরিমাণে পৌঁছায় বলে দিন এবং রাত প্রায় সবসময়ই অন্ধকারে আচ্ছা দিতে থাকে। সেখানে রয়েছে দেখার মত অনেক কিছু। শুধু তাই নয়, বান্দরবানের আন্দারমানিক এমন একটি জায়গা যেখানে পাহাড়ের নিজস্ব একটি গন্ধ রয়েছে। 

আপনি যদি সতেজ বাতাস এর আনাগোনা দেখতে চান এবং প্রাণভরে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে চান তাহলে নিশীথে দীর্ঘ পাথরে পথ আন্ধারমানিক আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। 

তাছাড়াও এই স্থানের অন্যতম মূল আকর্ষণ হচ্ছে নারেসা ঝিরি, যার দুই পাশ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট পাথরের দেয়াল। আর এই দুই দেওয়াল সমান্তরাল ভাবে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছে যেটা দেখে যে কারো মনে হবে যেন কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া পাহাড়ি দেওয়াল। মূলত পাহাড় ঝিরি ঝরনা এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে নির্মল রোমাঞ্চকর জায়গা আন্ধারমানিক। 

যেখানে আপনি যদি কখনও গিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই নিম্ন বর্ণিত স্থানগুলো না দেখে ফিরবেন না। যথা—

    • পালংখিয়াং ঝর্ণা

    • নারিশা ঝিরি মাইকোয়াপাড়া

    • চাইমপ্রা ঝিরী

    • তৈন খাল সহ বিভিন্ন পাড়া।

আন্ধারমানিক বান্দরবান (Andharmanik Bandarban) যাওয়ার উপায়

আপনি যদি ঢাকা থেকে বান্দরবানের আন্দরমানি কে পৌঁছাতে চান তাহলে আনুমানিক কত টাকা খরচ করতে পারে এবং কিভাবে যেতে পারবেন সেটাই উল্লেখ করব আলোচনার এ পর্যায়ে। মূলত ঢাকা থেকে বান্দরবানে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে বাস এর সহযোগিতা নিতে হবে। বাসে চেপে যেতে মোটামুটি নন এসি বাসের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৬২০ টাকা এবং এসি বাসের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৮৫০ টাকা। 

অতঃপর বান্দরবান থেকে বাসে করে যেতে হবে থানচিতে। সেখান থেকে মোটামুটি বাস ভাড়া তে জন প্রতি খরচ পড়বে ২০০ টাকা। আর আপনি যদি ট্রোলার রিজার্ভ করতে চান সে ক্ষেত্রে থানচি থেকে আন্দারমানিক যাওয়ার জন্য ট্রলার ভাড়া পড়বে ১০ হাজার টাকা। অতএব আপনি আন্ধারমানিক বান্দরবান যেতে পারবেন সড়ক মাধ্যমে। 

তবে হ্যাঁ আন্ধারমানিক পৌঁছানোর দুইটি মাধ্যম রয়েছে। আর সেই দুইটি মাধ্যম এর মধ্যে আপনি যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে পারেন। একটি হচ্ছে সড়কমাধ্যম অন্যটি হচ্ছে নৌমাধ্যম। আপনি মূলত স্টেপ বাই স্টেপ কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় পৌঁছাবেন এবং আন্ধার মালিকের কোন স্থানে অবস্থান করবেন সেটা জানতে নিচের দুটি পয়েন্ট ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। 

আন্ধারমানিক পৌঁছানোর মাধ্যম:-১

মূলত আলীকদম এর আমতলী নৌকাঘাট থেকে দুছরী বাজার সেখান থেকে শুরু হয় ট্র্যাকিং। সেখান থেকে ট্র্যাকিং করে রাউং পাড়া। রাউং পাড়া থেকে যেতে হবে কদমপাড়া হয়ে ক্রালাই পাড়া পর্যন্ত। এবং সেখান থেকে আইজ্যাক পাড়া হয়ে মাইকোয়া পাড়া থেকে আন্ধারমানিক। এ পথ ট্র্যাকিং করে আসতে সময় লাগবে ৪ থেকে ৫ দিন। তবে এর আগে আন্ধার মানিকের এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্য গাইড পাওয়া যেত কিন্তু নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করার কারণে এখন গাইড পাওয়া যায় না। এ কারণে সেখানের নির্দিষ্ট কিছু পাড়া থেকে স্থানীয় গাইডদেরকে একটু মোটা এমাউন্টের টাকা প্রদান করার মাধ্যমে হায়ার করা যেতে পারে। 

আঁধারমানিক পৌঁছানোর মাধ্যম-২

থানচি থেকে ট্রলারে রেমাক্রি এবং বড় মোদক হয়েও পৌঁছানো যায় আন্ধার মানিকে। যারা খুব সহজ এবং সাশ্রয়ী ভাবে আন্ধারমানিক গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে চান তাদের জন্য এই রাস্তাটি বা এর মাধ্যম কি উপযুক্ত।  তবে হ্যাঁ, আপনি যেহেতু রহস্য উদঘাটনের জন্যই এমন রহস্যময়ী জায়গা পর্যটন স্থল হিসেবে বেছে নিবেন তাই যে কোন মাধ্যমে আপনার পৌঁছাতে অনেক বেশি ভালো লাগবে। 

তাছাড়াও আন্ধার মানিকের মানুষগুলো প্রচন্ড চমৎকার। আর তাইতো সেখানের মানুষজন একদমই শাসন মানে না। তারা তাদের মত চলাফেরা করে। জানলে অবাক হবেন যে আন্ধার মানিকের এমন কিছু পাড়া রয়েছে যেখানে মানুষজন আধুনিকতার বিন্দুমাত্র নিয়ম-কানুন মানে না এমনকি তারা পোষাক ও পরিধান করে না। তারা পাহাড়ি পরিবেশে বসবাস করে এবং তাদের মত করেই জীবন যাপন করে চলে। তবে যাই বলি না কেন সবদিক বিবেচনা করে বান্দরবানের আন্দারমানিক সৌন্দর্যে অন্যান্য সকল পথের সৌন্দর্যকে হার মানাবে। তাই আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন এবং একটু অন্য রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে চান তাহলে ঘুরে আসুন আন্ধার মানিক। 

আন্ধারমানিক ভ্রমণ টিপস

যারা যারা আন্ধারমানিক বান্দরবান (Andharmanik Bandarban) এ পৌঁছাতে চান এবং ইতোমধ্যে টুরিস্ট স্পট হিসেবে সিলেক্ট করে ফেলেছেন তারা অবশ্যই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর হ্যাঁ আপনাদের জন্য উপযুক্ত সময় এখনই। কেননা পর্যটকেরা মনে করেন আন্দামানিক ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় শীতকাল। সেখানে পরিবেশ এই সময়ে কিছুটা অন্যরকম ভাবে উপভোগ করা যায় এমনকি প্রকৃতির স্নিগ্ধতা একটু ভিন্ন ভাবে ফুটে ওঠে। 

আর হ্যাঁ ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন উঠেই আসে, সেটা হল কোথায় খাবেন এবং কোথায় থাকবেন? আপনি যদি আন্ধার মানিকে যান তাহলে রেমাকৃতিতে খাবার পাবেন তাছাড়াও নিজেরাও রান্না করে খেতে পারবেন সেখানে। আর যদি থাকার কথা বলেন সেক্ষেত্রে রিমাক্রিতে কয়েকটি গেস্ট হাউজ রয়েছে, সেখানেও থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন এবং ছোট ও বড় মোদকের আদিবাসীদের বাড়িতে থাকতে পারেন। 

আর হ্যাঁ, আঁধার মানিকে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সাথে রাখবেন

    • ছোট ভালো মানের একটি টর্চ লাইট

    • ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর ফটোকপি

    • গামছা এবং টি শার্ট এবং থ্রি কোয়াটার প্যান্ট

    • সানগ্লাস+রেইনকোট

    • চার্জের জন্য পাওয়ার ব্যাংক

    • পলি অথবা একটি ছাতা

তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আন্ধারমানিক বান্দরবান সম্পর্কিত আলোচনার ইতি টানছি আজ এখানেই। তো অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দেবেন আন্ধারমানিক স্থানটিতে আপনি কবে ভবনে যাচ্ছেন আর যদি ইতিমধ্যে সেখানে গিয়ে থাকেন সেটাও জানাতে ভুলবেন না। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

Facebook

নতুন দর্শনীয় স্থান