cropped-Black-White-Minimalist-Business-Logo.jpg
সহস্রধারা ঝর্ণা সহস্রধারা ঝর্ণা ২ ছাগলকান্দা ঝর্ণা সুপ্তধারা জলপ্রপাত ঝরঝরি ট্রেইল ছাগলকান্দা ঝর্ণা sohosrodhara waterfal

আজকে কথা বলব সহস্রধারা ঝর্ণা নিয়ে। যারা পাহাড় পছন্দ করেন, ঝর্ণা উপত্যকায় বেড়াতে চান তাদের জন্য বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত সবচেয়ে সুন্দর জায়গা এটি। যেটা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড জেলায় রয়েছে। আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমী হয়ে থাকেন এবং প্রকৃতির এক অন্য রকমের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাহলে একজন পর্যটক হিসেবে অবশ্যই আপনার সীতাকুণ্ডে যাওয়া উচিত। 

কেননা সেখানে সহস্রধারা ঝরনাটি অনেক উঁচু এবং অসম্ভব সুন্দর। এছাড়াও সেখানে পৌঁছানোর রাস্তা বেশ সহজ। আর তাই আপনি চাইলে এবারের বর্ষায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নিতে পারেন, বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত এমন অনন্য সুন্দরতম জায়গাটি। তো এখন আসুন জেনে নেই, সেখানে গেলে আপনি কি কি দেখতে পাবেন মূলত সহস্রধারা ঝর্ণাতে কেন যাবেন, কিভাবে যাবেন, থাকবেন কোথায় এবং খাবেন কি ও ভ্রমণ খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত। 

সহস্রধারা ঝর্ণা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম | অবস্থান ও সহস্রধারা ঝর্ণার বর্ণনা

সহস্র ধারা ঝর্ণাটি কোথায় অবস্থিত, এটি দেখতে কেমন এবং সেখানের মূল আকর্ষণ কি, কেন যাবেন সেখানে! মূলত সহস্র ধারা ঝর্ণার বিবরণ ও রূপবৈচিত্র্য তার সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেলেই আপনি বুঝতে পারবেন। 

চট্টগ্রাম জেলার জনপ্রিয় এই সহস্রধারা ঝর্ণাটি, সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুসজ্জিত চিরসবুজ বনাঞ্চলের “সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক” এ অবস্থিত। আপনি যদি চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছান তাহলে সেখান থেকে মোট ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথের পূর্ব পাশে অবস্থিত এই পার্কটি। 

সেখানে প্রধান আকর্ষণী হচ্ছে সহস্রধারা ঝর্ণা। যারা ঝর্ণার পানিতে স্নান করতে চান অন্য রকমের একটি আনন্দময় সময় কাটাতে চান তাদের জন্য এই জায়গাটি একটি দারুন টুরিস্ট স্পট হতে পারে। যেখানে আপনি বছরের যে কোন সময় যেতে পারবেন।  আর মজার ব্যাপার হচ্ছে শুধুমাত্র সহস্রধারা ঝর্ণা নয়, সেখানে গেলে আপনি সুপ্তধারা ঝর্ণা নামে আরও একটি জলপ্রপাত এর সন্ধান পাবেন। সেটাও অসম্ভব সুন্দর। আর তাই একই সঙ্গে দুইটি দারুন স্থানের রূপ বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যতা উপভোগ করতে পারবেন আপনি। 

তাছাড়াও সহস্র ধারা ঝর্ণা বর্তমানে মানুষের এত পছন্দের শীর্ষিমায় রয়েছে যে সেখানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এসে ভিড় জমায়। আর সেই জায়গাটার সৌন্দর্যতা মানুষকে কতটা আকৃষ্ট করে সেটা আপনি গেলেই বুঝতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সহস্রধারা ঝর্ণা অর্থাৎ সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা ঝর্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন?

সহস্রধারা ঝর্ণায় কখন যাবেন | সহস্রধারা ঝর্ণা ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সহস্রধারা ঝর্ণার প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে ঝরনার জলরাশি বা পানি। আপনি সেখানে বছরের যেকোনো সময় যেতে পারেন তবে যদি বর্ষাকালে যান তাহলে ঝর্ণার পানি অনেক বেশি বা দেখতে পাবেন। কেননা বর্ষাকাল ছাড়া বছরের বাকি সময় এই ঝর্ণায় পানি অনেক কম পরিমাণে থাকে। তাই পানিতে পরিপূর্ণ সহস্রধারা ঝর্ণা দেখতে হলে বর্ষাকাল হচ্ছে উপযুক্ত সময়। তো যেহেতু আপনি সেখানের আসল সৌন্দর্যতা উপভোগ করতে চান তাই আমরা সাজেস্ট করব বর্ষাকালে এই স্থানটি ভ্রমণের জন্য বেছে নেওয়ার। 

সহস্রধারা ঝর্ণায় পৌঁছানোর উপায় | সহস্রধারা ঝর্ণা যাওয়ার উপায়

সীতাকুণ্ডের সীতাকুন্ড ইকোপার্কে অর্থাৎ সহস্রধারা ঝর্ণাতে পৌঁছানোর জন্য আপনি সড়কপথে বাসে এবং রেলপথে ট্রেনে চেপে যেতে পারবেন। কেননা ঢাকা শহর থেকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক পৌঁছাতে বেশ কয়েকটি পরিবহনের এসইও নন এসির বাস পাওয়া যায়। এ পর্যায়ে আমরা যে বাসগুলোর নাম উল্লেখ করছি সেগুলো ঢাকার সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে প্রত্যেকটি বাস সরাসরি সীতাকুণ্ড নামক স্থানে পৌঁছায় না। কিছু বাস রয়েছে যারা ২ কিলোমিটার দূরে ফকিরহাট নামক জায়গায় থামে অতঃপর সেখান থেকে অটো ট্যাক্সি অথবা বাসে করে পুনরায় পৌঁছাতে হয় সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে। 

তো আপনি যদি ঢাকা থেকে সহস্রধারা ঝর্ণা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে চান তাহলে নিম্নবর্ণিত বাসগুলো বেছে নিতে পারেন। যথা—

  • এস.আলম, 
  • সৌদিয়া, 
  • গ্রীনলাইন, 
  • সিল্ক লাইন, 
  • সোহাগ, 
  • বাগদাদ এক্সপ্রেস, 
  • ইউনিক 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে সরাসরি বাস পৌঁছায় মাদারবাড়ী ও কদমতলী বাস স্টেশন থেকে। তাই আপনি চাইলে সেখান থেকে বাসে চেপে সরাসরি আপনার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবেন।

অন্যদিকে যদি রেল পথে যেতে চান সেক্ষেত্রে ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকা মেইল ট্রেনটি শুধু আপনার একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হবে। যেটা ঠিক রাত ১১ টায় যাত্রা শুরু করে এবং সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে সীতাকুণ্ডে পৌঁছায়। 

সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা ঝর্ণায় যাওয়ার খরচ

আপনি যদি নন এসি বাস সীতাকুণ্ডে যাওয়ার জন্য সিলেক্ট করে থাকেন সেক্ষেত্রে জন প্রতি 480 টাকার মত খরচ পড়বে। অন্যদিকে এসি বাস ভাড়া করলে ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা লাগবে। তবে অবশ্যই সুপারভাইজার কে জানিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন যে আপনি সীতাকুণ্ড বাজারে নামবেন। আর আপনি যদি ফেনীতে এসে সীতাকুন্ড বাজার পৌঁছাতে চান সে ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে লোকাল বাসে চেপে যেতে পারবেন। মূলত বাস ভাড়া নির্ভর করছে যে আপনি কোন স্থান থেকে যাত্রা শুরু করছেন। তবুও আমরা ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর ভাড়া কত হতে পারে সেটা জানালাম। 

আর হ্যাঁ এ পর্যায়ে আরেকটি বিষয় তুলে ধরা যাক। সেটা হল ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত খরচের ব্যাপারে অনেকেই জানতে চান। এজন্য আপনি কোন জেলায় অবস্থান করছেন তা কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন। অথবা ঢাকা টু চট্টগ্রাম পৌঁছানোর ভাড়ার উপর ভিত্তি করে এটা বের করার চেষ্টা করুন যে আপনি যে জেলাতে রয়েছেন সেখান থেকে পৌঁছাতে ঠিক কত টাকা খরচ হতে পারে । আর অন্যান্য খরচের কথা যদি বলেন তাহলে এটা অনেকটাই আপনার উপর নির্ভর করছে। 

কেননা আপনি কোন ধরনের খাবার খাচ্ছেন, কেমন মানের হোটেলে বা রিসোর্টে থাকছেন তার ওপর নির্ভর করবে। তো এখন আসুন জেনে নেই সেখানে থাকার জন্য ভালো মানের আবাসিক হোটেল কোনগুলো এবং খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা কোনটি!

সহস্রধারা সীতাকুণ্ডে কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন?

সীতাকুণ্ড নামক বাজারে বেশ ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়াও আরো রয়েছে একটি ডাকবাংলো। তাই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়ে আপনি থাকার ব্যবস্থাও করে নিতে পারবেন। আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে সাইমন ও সৌদিয়া। এছাড়াও বাকি যে সকল হোটেল রয়েছে সেগুলোতেও আপনি তাদের নির্ধারিত কিছু এমাউন্ট প্রদান করার পরবর্তীতে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। 

আর খাওয়ার কথা বললে বলবো সেখানে আপনি ভাল মানের বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট পাবেন এবং হোটেলও রয়েছে সেখানে। হোটেল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে হোটেল এশিয়ান এসআর , হোটেল নাবা ইন, প্যারামাউন্ট এবং হোটেল ল্যান্ডমার্ক। 

তো সুপ্রিয় ভ্রমণ প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, দেরি না করে এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং বর্ষায় চলে আসুন সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা ঝর্ণায়। আর হ্যাঁ সীতাকুণ্ডের দর্শনীয় স্থান হিসেবে আশেপাশে রয়েছে আরও কিছু জায়গা। যার মধ্যে একটি না। ইতিমধ্যে আমরা সাজেস্ট করেছি। তবে এছাড়াও আপনি আরো যা যা দেখতে পারেন সেখানে সেগুলো হচ্ছে–

  • গুলিয়াখালি বীচ
  • চন্দ্রনাথ পাহাড়
  • বাঁশবাড়িয়া বীচ
  • কমলদহ ঝর্ণা
  • ঝরাঝুরি ঝর্ণা
  • কুমিরা সন্দীপ সহ প্রভৃতি।

আর হ্যাঁ, যেহেতু আপনি সেখানে ভ্রমণ করতে যাবেন তাই অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করবেন। যেমন পাহাড়ি রাস্তা বলে ভালো মানের গ্রিপের জুতা পড়ে যাবেন, সেখানে অতিরিক্ত জোঁকের আবির্ভাব রয়েছে তাই ঘাস এড়িয়ে চলবেন ও সতর্কতা অবলম্বন করবেন এ ব্যাপারে। তাছাড়াও নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সব সময় কাছে রাখবেন আর অতিরিক্ত খাবার খাবারের প্যাকেট চিপসের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকবেন। 

আশা করি আমাদের দেওয়া টিপস ও আমাদের উল্লেখিত ইনফরমেশন গুলো আপনার ভ্রমণকে আরো বেশি সুন্দর করতে কাজে লাগবে। বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে জানতে এবং ভ্রমণ টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Facebook

নতুন দর্শনীয় স্থান